অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ভোলা ও মনির কারাগারে

1465634305চট্টগ্রাম অফিস : পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহকারী এহতেশামুল হক ওরফে হানিফুল হক ওরফে ভোলাসহ (৪১) দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পয়েন্ট থার্টি টু বোর রিভলবার, এর ৬ রাউন্ড গুলি ও একটি সেভেন পয়েন্ট সিক্সটি ফাইভ বোর বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। গত সোমবার রাত ৩টার দিকে নগরীর বাকলিয়া থানার রাজাখালী থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে পুলিশ জানায়, ভোলা রাজাখালী এলাকার মৃত সৈয়দুল হকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা রয়েছে। মিতু হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয় মনির হোসেন ওরফে মনিরের (২৮) কাছ থেকে। ভোলার দেয়া তথ্য অনুসারে, নগরীর রাজাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মনির কুমিল্লার মুরাদনগরের জাফরনগর গ্রামের মৃত ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে। নগরীতে বাকলিয়ার রাজাখালী এলাকার কবির সওদাগর কলোনির পাশে এরশাদের কলোনিতে একটি ভাড়া বাসায় থাকত মনির।

এদিকে মিতু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার এহতেশামুল হক ভোলা ও মনিরের অস্ত্র মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। এ বিষয়ে আরো শুনানির জন্য পরবর্তী সময়ে দিন নির্ধারণ করা হবে জানিয়ে দুজনকেই কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর নওরিন আক্তার কাঁকন রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। সকালে আটক দুজনকে ৫৮ (৬) ২৬ নম্বর অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

সিএমপির প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, গ্রেপ্তারকৃত এ দুই আসামি মিতু হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিলার গ্রুপের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। মিতু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অপর দুই আসামি মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম এবং আনোয়ার হোসেনের গত রোববার ১৬৪ ধারায় আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে জানায়, ভোলা তাদের অস্ত্র সরবরাহ করেছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভোলা জানায়, মিতু হত্যার সময় সে ঘটনাস্থলে ছিল না। শুধু অস্ত্র সরবরাহ করেছে। হত্যাকাণ্ডের পর অস্ত্রগুলো ভোলার কাছে ফেরত দেয় তারা। পরে অস্ত্রগুলো মনিরের কাছে গচ্ছিত রাখে ভোলা। ভোলার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে মিতু হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। মনিরকেও গ্রেপ্তার করা হয়। অস্ত্রগুলো ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে কিনা, এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া খুনিদের অস্ত্র সরবরাহ করার জন্য কে বলেছিল সেটা জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করতে ভোলাকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়।

দেবদাস ভট্টাচার্য আরো বলেন, অস্ত্রদাতা হিসেবে ভোলাকে মিতু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কার নির্দেশে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে এ ব্যাপারে জানতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু মিতু হত্যার সঙ্গে মনিরের কোন সংশ্লিষ্টতা না থাকায় তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। তার বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হারুন-অর-রশীদের আদালতে জবানবন্দি দেয় ওয়াসিম ও আনোয়ার। ওই সময় আসামি মোতালেব ওরফে ওয়াসিম জানায়, ‘পুলিশের বড় সোর্স’ আবু মুছার নির্দেশেই এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানমকে খুন করা হয়েছে। জবানবন্দিতে তারা আরো জানায়, আবু মুছার নির্দেশে জিইসি মোড় এলাকার বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে খুনের জন্য তারা গত ৫ জুন ভোরে জড়ো হয়। ওই হত্যা মিশনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল মুছার ওপরই। তার নির্দেশনা মতে টাকার বিনিময়ে মোট সাতজন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। তারা হলো- আবু মুছা, ওয়াসিম, রাশেদ, নবী, কালু, শাহজাহান ও আনোয়ার। এ ছাড়া অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে এহতেশামুল হক ভোলার নাম জানায় তারা।

লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.