কাজী আরেফের অবদানের সঠিক মূল্যায়ন জরুরি

কাজী আরেফ আহমেদ বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় নাম। মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা ছিল তার। তার মধ্যে সঠিক চিন্তা ছিল। তার অবদানের সঠিক মূল্যায়ন করা জরুরি। তার কথা তরুণ প্রজন্মকে জানাতে উদ্যোগ নিতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাসদ নেতা কাজী আরেফ আহমেদের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা। এ সময় কাজী আরেফ হত্যাকাে র পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানান তার মেয়ে কাজী আফরিন জাহান জুলি।

‘কাজী আরেফ পরিষদ’ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তার মেয়ে ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মাহফুজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, আইনজীবী জেড আই খান পান্না, জাসদ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মুনীর উদ্দীন আহমেদ ও নাজমুল হক প্রধান বক্তব্য দেন।

কাজী আফরিন জাহান জুলি বলেন, একটি ভয়ঙ্কর নৃশংস নির্দয় হত্যাকাে র মধ্য দিয়ে আমরা কাজী আরেফ আহমেদকে হারিয়ে ফেলি। খুনিরা তাকে সামনে থেকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। তার হত্যার পেছনের পরিকল্পনাকারীদের সম্পর্কে এখনও জানতে পারি না। তাদের জানা প্রয়োজন।

লিখিত বক্তব্যে মাহফুজুর রহমান বলেন, কাজী আরেফ আহমেদ বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় নাম। যদিও এ নামটি আজকের প্রজন্মের কাছে অচেনা এবং ব্যক্তিটিকে আজ অনেকেই চেনেন না। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে আজ অনেকেই তাকে চিনলেও তা প্রকাশ করতে চান না। স্বাধীনতা-পূর্ব  কাজী আরেফ আহমেদকে চিনতে বা জানতে হলে আমাদের ‘নিউক্লিয়াস’কে জানতে হবে। ‘নিউক্লিয়াস’ ছিল গোপন সংগঠন, বেছে বেছে এর সদস্য করা হতো।

অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, কাজী আরেফ আহমেদের মধ্যে সঠিক চিন্তা ছিল। মহান ছিল তার অনুভব। স্বাধীনতার স্বপ্নের বীজ বপনের ক্ষেত্রে নিউক্লিয়াসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সংযোগ ছিল। কাজী আরেফ ছিলেন সেই নিউক্লিয়াসের অন্যতম নেতা। স্বাধীনতার স্বপ্ন শুধু নয়, সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন শুধু নয়, বাংলাদেশের পতাকা তৈরিতেও তার ভূমিকা ছিল।

জেড আই খান পান্না বলেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে কাজী আরেফের অনন্য ভূমিকা রয়েছে। তার হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে। যদিও কোনো হত্যাই হয় না পরিকল্পনাকারী ছাড়া। এখনও সেই হত্যার কোনো পরিকল্পনাকারীকে ধরা হয়নি। এই হত্যার পরিকল্পনাকারীদেরও বিচার একদিন হতে পারে।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, কাজী আরেফ আহমেদকে আমরা যথাযথ মূল্যায়ন করিনি। তাকে সঠিক মূল্যায়ন করাটা জরুরি। তার কথা তরুণ প্রজন্মকে জানাতে উদ্যোগ নিতে হবে।

লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments