ক্রিকেটের প্রথম সুপারস্টার ডব্লিউ.জি গ্রেস: রগচটা এক বুড়ো!

উইলিয়াম গিলবার্ট গ্রেইস সংক্ষেপে ডব্লিউ.জি গ্রেস। ক্রিকেটের আদি ও প্রথম সুপার স্টার তিনি। সোজা কথায় আধুনিক ক্রিকেটের জনক। তার ব্যাটিং এর দর্শকপ্রিয়তা ছিল চরম। প্রবাদ আছে গ্রেস খেললে টিকেট মূল্য ডবল হয়ে যেত।

জন্ম ২৮ জুলাই ১৮৪৬ সালে আর ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে মৃত্যুবরণ করেছেন ২৩ অক্টোবর ১৯১৫ সালে।
মাত্র ২২টি টেষ্ট ম্যাচ খেলেছেন। ৩২.২৯ গড়ে ১০৯৮ রান করেছেন সেঞ্চুরি ২টি, হাফ সেঞ্চুরি ৫টি আর সর্বোচ্চ ১৭০। বল হাতেও চালিয়ে যেতেন আন্ডারআর্ম বোলিং। তবে তাঁর ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটের পরিসংখ্যান দেখলে চোখ বড় হয়ে যাবে যে কারও।৮৭০ ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচের ১৪৭৮টি ইনিংসে তুলেছেন ৫৪২১১ রান।সর্বোচ্চ-৩৪৪ রান।গড়-৩৯.৪৫, সেঞ্চুরী-১২৪ টি ও হাফ সেঞ্চুরী-২৫১টি। আট ক্যালেন্ডারে হাজার রান আর শত উইকেট প্রাপ্তির রেকর্ড আছে। এক সপ্তাহে দুইটা ট্রিপল। পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে তিনি কত বড় মাপের ব্যাটসম্যান ছিলেন।

সাদা-কালো যুগের রঙ্গিন এই ক্রিকেটার স্মরণীয় হয়ে আছেন অন্য কারণে।খামখেয়ালীপনা আর ত্যাড়ামির জন্য অমর হয়ে থাকবেন তিনি। ব্যাট কখনো ছাড়তেই চাইতেন না। ব্যাটিং সম্পর্ক তাঁর একটা অমর বাণী……

‘আমি যখন ভাল পিচে টস জিতি তখন ব্যাটিং নিই।
আমি যখন টস জিতি একটা সংশয়পূর্ণ পিচে, তখন আমি এটা নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবি এবং ব্যাটিং নিই।
যখন আমি খুব খারাপ পিচে টস জিতি, তখন আমি এটা নিয়ে আরেকটু বেশীক্ষণ ভাবি এবং ব্যাটিং নিই। ‘

বুঝতেই পারা যায় যে নিজের সিদ্ধান্তে এক চুল নড়তেন না তিনি। তাকে নিয়ে আরও কিছু মজার ঘটনাও আছে।

★একবার তিনি ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই বোল্ড আউট হয়ে গেলেন। উইকেট গুলো যথা স্থানে পুঁতে বোলারকে ডেকে বললেন এটা ট্রায়াল বল ছিল। তাঁর এই ঘাড়ত্যাড়ামির কারণে কর্তৃপক্ষ কিছু দিনের জন্য ‘ট্রায়াল বল’ আইন চালু করতে বাধ্য হয়।

মোটাসোটা আর বিশাল দেহের অধিকারী গ্রেসের পরিধানের জামা কাপরগুলো ছিল ঢিলাঢালা।একবার একটা বল ব্যাটে লেগে ঢুকে পড়লো তাঁর জামার ভেতরে। এই অবস্থায় রানের জন্য দৌড়াতে শুরু করলেন। ৭ রান নেওয়ার পর প্রতিপক্ষের ফিল্ডাররা তাঁকে চেপে ধরে তাঁর জামার ভিতর থেকে বল বের করে আনলো এবং এর পর থেকেই ‘ডেড বলের’ এক নতুন নিয়ম চালু হল।

এক ম্যাচে তার দল ফিল্ডিং করছিলো। দিনের শেষ বলে বল লাগলো ব্যাটসম্যানের পায়ে। পরিষ্কার আউট। কিন্তু কেউ কোন আবেদন করলো না দিনের খেলা শেষ হওয়ার পরে ঐ ব্যাটসম্যান গ্রেসকে মজার ছলে বললেন….
‘আপনারা আবেদন করলেন না কেন? আমি তো আউট ছিলাম। ‘
গ্রেস কিছু না বলে চুপ থাকলেন। পরেরদিন খেলা শুরু হবে, বোলার রানআপ নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছেন এমন সময় গ্রেস আম্পায়ারের সামনে আবেদন আউটের আবেদন করেন
‘হাউ’জ দ্যাট?’
আম্পায়ারসহ মাঠের সবাই ‘থ’ হয়ে গেলেন।
এটা ছিল আগের দিনের শেষ বলের আপিল অর্থাৎ ‘বাসী আপিল !!!!!!’
আম্পায়ার বাধ্য হয়ে আঙ্গুল উঁচু করতেই হল। কারণ আউট হওয়া বলের পরে আর কোন বল করা হয়নি।

গ্রেস ব্যাট করার সময় স্লিপ,কিপার বা ব্যাটসম্যানের কাছাকাছি অঞ্চলে ক্যাচ উঠলে তিনি উচ্চ শব্দে অদ্ভুদ সব শব্দ করতেন যাতে ফিল্ডারের ফিল্ডিং করতে সমস্যা হয়।

অদ্ভুদ শর্তের যাঁতাকলের পরে পাড়ার ম্যাচে গ্রেসকে ব্যাটের বদলে ঝাড়ুর হাতল দিয়ে(কেউ কেউ বলে ঝাড়ু দিয়ে) ব্যাটিং করতে হয়েছিল। সেই ম্যাচেও ইনিংসের ২য় সর্বোচ্চ রান(৩৫ রান) সংগ্রাহক ছিলেন তিনি।

এক বার কোন এক বোলার গ্রেস সাহেবেকে বোল্ড করে দুই স্ট্যাম্প তুলে ফেলেছিলেন। বোলার হাসি মুখে গ্রেসকে এসে বললেন আউট হয়ে গেছেন। গ্রেস সাহেবের জবাবটা ছিল আরও হাস্যকর-
তিনি বললেন, ‘দেখতেইতো পাচ্ছ আরও একটা উইকেট বাকী আছে। দর্শক আমার ব্যাটিং দেখতে আসে তোমার বোলিং নয়। ‘

অ্যাডিলেড ওভালে ব্যাট করছিলেন ডব্লিউ জি গ্রেস। এক বলে জোরে ব্যাট চালালেন। বল চলে যাচ্ছিলো সীমানার বাইরে। কিন্তু সীমানার বাইরে যাওয়ার আগেই এক দর্শক বাউন্ডারি লাইনের মধ্যে হাত বাড়িয়ে বলটা লুফে নিলেন।
স্বাভাবিকভাবেই ছক্কা হওয়ার কথা। কিন্তু বেরসিক আম্পায়ার দিলেন আউট।
বুঝে নেন সেই আম্পায়ারের কপালে কি হয়ছিল !

একবার তিনি ইচ্ছে করেই ৯৩ রানে আউট হন। কারণ তিনি জীবনে ০ থেকে ১০০ পর্যন্ত সব রানই করেছেন, কিন্তু কখনও ৯৩ রান করা হয়নি। বেশ হয়ে গেল ০-১০০ সব রানেই আউট হবার রেকর্ড।

ক্রিকেটের নির্মল বিনোদন আর গ্রেস যেন একে অন্যের পরিপূরক ছিল। ক্রিকেট অনেক বড় বড় গ্রেট জন্ম দিয়েছে কিন্তু একটা গ্রেস জন্ম দিতে পারবে না। কারণ গ্রেস নিজেই আধুনিক ক্রিকেটের জনক।

লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments