ক্ষুধার্তের মুখে খাবার তুলে দেন ওরা

4444444২৫ জন টগবগে তরুণের একটি দল। সবার বয়স প্রায় কাছাকাছি। ২২ থেকে ২৫। সবাই রাজধানীর বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যা-লয়ের শিক্ষার্থী। এরা সবাই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশনের সদস্য। নিজেদের প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছেন ‘ফুড ব্যাংকিং প্রকল্প’। অনুষ্ঠানে বেঁচে যাওয়া খাবার অসহায় ও ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এ প্রকল্পের কাজ।

 

জন্মদিন, বিয়ে কিংবা বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রায়ই অনেক খাবার বেঁচে যায়। অনেক সময় পারিবারিক অনুষ্ঠানেও খাবার বাঁচে। এসব খাবার বিক্রি করে দেওয়া হয় অথবা ফেলা দেওয়া হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব উন্নতমানের খাবারের স্থান হয় কোন ডাস্টবিনে। ‘ফুড ব্যাংকিং প্রকল্পে’র স্বেচ্ছাসেবীরা এসব খাবার সংগ্রহ করে বস্তি, রেলওয়ে বা পথে-ঘাটে থাকা ছিন্নমূল, অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে তুলে দেন।

 

গত পাঁচ বছরে ১৫ হাজার ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে তারা খাবার তুলে দিতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানান প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. সামিউল হাসান। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে বেঁচে যাওয়া খাবার নষ্ট না করে অসহায় ও ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে তুলে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশনের পেজ থেকে আমরা প্রচার চালাই। সেখানে আমাদের হট লাইন নম্বর (০১৮৪২০০২০২৩) দেওয়া আছে। কোন অনুষ্ঠানে খাবার বেঁচে গেলে কর্তৃপক্ষ আমাদের নম্বরে যোগাযোগ করলে আমরা গন্তব্যে পৌঁছে যাই। খাবারগুলো সেখান থেকে বুঝে নিয়ে ছুটে চলি অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে। রাজধানীর বিভিন্ন বস্তি, রেলস্টেশনে থাকা ছিন্নমূল, অসহায় ও ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করি। অনেক সময় পুরো কাজটি সম্পন্ন করতে সারা রাত কেটে যায়। তবুও ভালো লাগে যখন ওইসব ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি দেখি।

 

এই তরুণ আরো বলেন, এ পর্যন্ত আমরা ৭৫ টি ফোন কল পেয়েছি। এর মধ্যে ৫৮ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। রাত যতই গভীর হোক না কেন, আমাদের হট লাইনে কেউ যোগাযোগ করলে আমরা স্বেচ্ছাসেবীরা মিলে গন্তব্যে চলে যাই। রাজধানীসহ সারা দেশেই আমাদের এ কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন জেলা শহরেও আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন।

 

সাধারণত মধ্যরাতে আমাদের কাছে ফোন আসে। কারণ রাজধানীতে অনুষ্ঠানগুলো সাধারণত রাতে অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশন করতে মধ্যরাত লেগে যায়। অনেক সময় দেখা যায়, দুই’শ বা তিন’শ লোকের খাবার বেঁচে যায়। তখন তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। আবার অনেক সময় পারিবারিক অনুষ্ঠানের খাবারও বেঁচে যায়, তারাও যোগযোগ করেন। তখন আমরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে গন্তব্যে চলে যাই, বললেন সামিউল।

 

বিভিন্ন সময় ক্যান্টনমেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়। সেখানে দু’শ-তিন’শ লোকের খাবার বেঁচে যায়। আমরা খাবারগুলো সংগ্রহ করে অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করি। তারা আমাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে দেন। এভাবেই আমরা অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছি বলে জানালেন এই তরুণ স্বেচ্ছাসেবী।
লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.