ক্ষুব্ধ রব ছাড়ছেন ঐক্যফ্রন্ট

খায়েশ পূর্ণ না হওয়ার আভাস পেয়েই ঐক্যফ্রন্ট ছাড়তে যাচ্ছেন ‘অসময়ে নীরব, সময়ে সরব’ খ্যাত আ স ম আব্দুর রব। আরাধ্য লক্ষীপুর-৪ আসনের মনোনয়ন জুটছে না তার কপালে, এমনটা আঁচ করতে পেরেই তার এ সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নের পুরো ব্যাপারটিই লন্ডনে পলাতক, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী তারেক জিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন। তারেকের নিজস্ব ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে করা জরিপেই সন্ত্রাসী ও টাকাওয়ালাদের কাছে বিক্রি হবে মনোনয়ন, এমন আলোচনা চলছে খোদ বিএনপিতেই।

চূড়ান্ত তালিকাও উড়ে আসবে ফেরারী এই আসামীর কাছ থেকেই।
দল একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিএনপিসহ গোটা ঐক্যফ্রন্টে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ নিয়ে বিএনপি নেতারা একে অপরের কাছে কষ্ট প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

আশংকা করা হচ্ছে তারেকের হস্তক্ষেপে ঐক্যফ্রন্টের অনেক নেতারই কপাল পুড়তে যাচ্ছে। সেই তালিকায় সবার প্রথমেই থাকছে লক্ষ্মীপুর ৪ আসনের একসময়ের সাংসদ আ স ম আব্দুর রবের নাম। তারেকের সাথে বিরোধই এক্ষেত্রে প্রধান কারণ। বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নানান মন্তব্য করেছেন রব। এমনকি বেশ কঠোর ভাষায় খালেদা-তারেকেরও সমালোচনা করেন। তারেকের দাবিকৃত মোটা অঙ্কের অর্থও দেননি তিনি। সব মিলিয়ে তারেক যে রবের ওপর একধরণের প্রতিশোধই নিলেন, তা এখন স্পষ্ট। তবে তাকে বাদ দেয়া হচ্ছে ‘অজনপ্রিয়তার’ অজুহাতে। এতে বেজায় চটেছেন রব।

আ স ম আবদুর রবের নির্বাচনী আসন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর)। এখান থেকে ১৯৮৬, ১৯৮৮ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর আর তিনি এ আসন থেকে নির্বাচিত হতে পারেননি।

১৯৯১ সালে বিএনপি প্রার্থী আবদুর রব চৌধুরী ২৫ হাজার ২০০ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রার্থী ছিলেন আ স ম আবদুর রব। তিনি পান ২৫ হাজার ভোট। ২০০ ভোটে পরাজিত হন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজান পান ৪৫ হাজার ৯৭৭ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী ছিলেন আ স ম আবদুর রব। তিনি পান ৪৩ হাজার ৪৫৩ ভোট। এবার পরাজিত হন দুই হাজার ৫২৪ ভোটে। ২০০৮ সালে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন থেকে ভোটে লজ্জাজনকভাবে চতুর্থ হন আ স ম আবদুর রব।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ’৮০ এর দশকে রব লক্ষ্মীপুরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। এমনকি ১৯৮৮ সালের নির্বাচনের দিন রামগতি বাজারে জিতেন্দ্র নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে রবের লোকজন। ওই সময় এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে পড়েন আ স ম আবদুর রব। তখন বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি।

এলাকায় এখন আর তার তেমন প্রভাব নেই। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে এলাকায় সরব হন রব। নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে তিনি নীরব থাকেন, এলাকায় যানও কম। তখন সক্রিয় থাকেন ঢাকায়।

রব বিভিন্ন সরকারের সময়ে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকলেও এলাকার উন্নয়নে কাজ করেননি বলে অভিযোগ আছে। নদী ভাঙন প্রতিরোধ থেকে শুরু করে এলাকায় তার কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ছিল না। তাই স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি ও তার দল এখন অনেকটাই গুরত্বহীণ।

লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments