খাগড়াছড়িতে নিহত পলাশ, তপন ও এল্টন চাকমার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ ছিল এলাকাবাসী

চলতি মাসের ১৮ তারিখ চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে খাগড়াছড়িতে প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতিসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন ইউপিডিএফ (প্রসীত বিকাশ খীসা নেতৃত্বাধীন) পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি তপন চাকমা, সহ-সাধারণ সম্পাদক এল্টন চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের জেলা সহ-সভাপতি পলাশ চাকমা এবং তিন পথচারী উত্তর খবংপয্যা গ্রামের বাসিন্দা ও জেলার মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী জিতায়ন চাকমা (৫৩), একই গ্রামের কান্দারা চাকমার ছেলে রুপম চাকমা ও ধীরাজ চাকমা।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, ১৮ই আগস্ট সকাল পৌনে ৮টার দিকে স্বনির্ভর বাজারে পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠনের বিবাদমান দুই গ্রুপের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলির শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ভয়ে-আতঙ্কে সাধারণ লোকজন ও ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়।

এদিকে নিহতদের মধ্যে পলাশ চাকমা, এল্টন চাকমা ও তপন চাকমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি সহ অসংখ্য অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে গণমাধ্যমে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা যায় পলাশ, তপন ও এল্টন মহালছড়ির মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছিল এলাকাবাসীর জন্য। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই নিজেদের বাহিনীর মাধ্যমে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালাতো। মহালছড়িতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার ও এলাকার চাঁদাবাজির অর্থের ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে অনেকদিন ধরেই প্রতিপক্ষের সাথে বিরোধ চলে আসছিলো তাদের।

পলাশ, তপন ও এল্টন চাকমা মারা যাওয়াতে মহালছড়ি উপজেলার এলাকাবাসী খুব খুশি হয়েছে বলে জানান মহালছড়ির জনগণ। কারণ তপন, পলাশ মহালছড়ি থাকাকালীন চাঁদা না পেয়ে অনেক জনগণকে মেরেছে। জনগণের কাছ থেকে হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করতো। তাই তাদের লাশ পর্যন্ত মহালছড়ি নিতে দেয়নি মহালছড়ি এলাকাবাসী।

এমনকি খাগড়াছড়িতে ৭ জন নিহতের মধ্যে ৪ জনের লাশ নিহতের পরিবার গ্রহণ করলেও নিহত হওয়ার পর পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের তিন নেতা তপন চাকমা, পলাশ চাকমা ও এলটন চাকমার পরিবারের কেউ তাদের লাশ গ্রহণ করতে আসেনি। পরিবারের কেউ না আসায় তাদের মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর থানায় রাখা হয়েছিলো। পরবর্তীতে পুলিশের উদ্যোগে ইউপিডিএফের অঙ্গসংগঠনের নিহত তিন নেতা-কর্মী পলাশ চাকমা, তপন চাকমা ও এলটন চাকমাকে দক্ষিণ খবং পুড়িয়া শ্মশানে দাহ করা হয়েছে।

 

মানুষ মারা গেলে নিজ গ্রামে নিজের জায়গায় দাহক্রিয়া করে। আর তপন, এল্টন ও পলাশকে নিজের জায়গায় দাহক্রিয়া করতে দিলোনা মহালছড়ি এলাকাবাসী। তাই তাদের নিজের জায়গা ফেলে অন্য জায়গায় দাহক্রিয়া করতে হয়েছে গন্তুষদের।

লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments