গ্রেফতারকৃতদের জবানবন্দি: ভীতি তৈরিতে সারা দেশে আওয়ামী লীগের প্রচার অফিসে হামলা

একের পর এক আওয়ামী লীগের প্রচার অফিসে হামলা চালাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা। এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, গ্রেফতারকৃত নেতারা প্রত্যেকেই বিএনপি-জামায়াত কর্মী। যাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় নাশকতা, মাদক, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, জনমনে ভীতির সঞ্চার করতেই সরা দেশে আওয়ামী লীগের প্রচার অফিসে হামলা এবং নেতাকর্মীদের জখম করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজারের পেকুয়ায় ২১ ডিসেম্বর কক্সবাজার ১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের প্রার্থী চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলমের নৌকা প্রতীকের ৫টি নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেয়া হয়। পরিকল্পিত এই অগ্নিসংযোগে ৫টি নির্বাচনী কার্যালয়ের আসবাবপত্রসহ পুরো কার্যালয় পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তারা প্রত্যেকেই বিএনপি-জামায়াত কর্মী। ২১ ডিসেম্বর গভীর রাতে কার্যালয়ে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে ২০ ডিসেম্বর রাতে ঝিনাইদহ-৩ আসনের অধীন কোটচাঁদপুর উপজেলার সাইনবোর্ড বাজারে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে দুজন আহত হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে বিএনপির দুই নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরইমধ্যে এর দায় স্বীকার করেছে বিএনপি।

একই রাতে বরিশাল সদরের কাশিপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিসে পেট্রোল ঢেলে আগুন, কক্সবাজারের চকরিয়ার খুটাখালী এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন, বাগেরহাটের রামপালে সোনাতুনিয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় আগুন, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর গ্রামে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন, যশোরের কেশবপুর পৌর এলাকার মধ্যকূল এলাকায় এক যুবলীগকর্মীকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বগুড়া-৩ আসনের অধীন আদমদীঘি উপজেলার তালশন কালীবাড়ি এলাকায় মহাজোটের লাঙল প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে বিএনপি-জামায়াত।

এছাড়া গাজীপুর, শরীয়তপুর, চট্টগ্রাম, চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছে বিএনপি-জামায়াতের নেতারা।

বিএনপি-জামায়াতের এমন পরিকল্পনাকে শক্ত হাতে দমন করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করার দাবি জানাচ্ছে রাজনীতি সচেতন সুশীল সমাজ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বড় নাশকতা রুখতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বাহিনীর সদস্যরা। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ভীতিকর বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে, অনুসন্ধানের সুবিধার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রকাশ থেকে বিরত থাকছে বলেও জানায় কর্মকর্তারা।

লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments