টিকিয়া গেল গ্রেট ব্রিটেন

111111111111৩০৯ বত্সরের বন্ধন ছিঁড়িয়া গ্রেট ব্রিটেন হইতে স্বাধীন হইতে চাহিলেন না স্কটল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটে প্রায় দশ ভাগ (৫৫.৩ শতাংশ) বেশি ভোট প্রদত্ত হইবার মধ্য দিয়া গ্রেট ব্রিটেন ইউনিয়নে থাকিয়া যাইবার সিদ্ধান্ত বলবত্ হয়। স্বাভাবিক যে, ভোটের ফলে ব্রিটিশ রাজনীতির প্রধান অংশগুলির মধ্যে বড় ধরনের স্বস্তি লইয়া আসিয়াছে। প্রধান তিন দল অর্থাত্ ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি, বিরোধী দল লেবার পার্টি ও কোয়ালিশন সরকারের শরীক লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রত্যেকেই গণভোটের ফলে উত্ফুল্ল প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করিয়াছে। উল্লেখ্য, সপ্তাহ দুই পূর্বে স্কটল্যান্ডে জনমত জরিপে স্বাধীনতার পক্ষে অধিক সমর্থন আসিবার পর হইতে প্রধান তিন দল জরিপের ফল ঘুরাইয়া দিবার জন্য যে যার মত করিয়া কোমর বাঁধিয়া মাঠে নামে। ভোটের ফলাফলে তাহাদের সাফল্যই এক্ষণে প্রতিভাত হইতেছে।
ভোটে ইউনিয়নপন্থিরা জিতিয়াছে বটে তবে ব্রিটেনের সকল পক্ষই শুক্রবার সকাল হইতে কবুল করিয়া লইয়াছেন যে, এই ভোট দেশের রাজনীতিকে সাংঘাতিকভাবে নাড়া দিয়া গিয়াছে। স্বাধীনতাপন্থিরা হারিয়া গেলেও তাহাদের বড় বিজয় এই যে, কেন্দ্র হইতে বিপুল ক্ষমতা এখন স্কটল্যান্ড পার্লামেন্টের হস্তগত হইয়া যাইবে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরোন জানাইয়াছেন যে, আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনের পরে এইসব পরিবর্তনের দিকে হাত দেওয়া হইবে। উল্লেখ্য, স্বাধীনতার বিপক্ষে ভোট টানিবার জন্য কনজারভেটিভ পার্টি গত কয়েকদিন কেন্দ্র হইতে বিপুল ক্ষমতা স্কটল্যান্ড পার্লামেন্টের নিকট হস্তান্তর করিবার ঘোষণা দিয়া আসিতেছিলেন। এহেন ঘোষণা যে স্বাধীনতার পক্ষের হাওয়া অনেকখানি স্তিমিত করিয়া দিয়াছে তাহাতে সন্দেহের অবকাশ নাই। তাহারা নিরন্তর প্রচারণা দ্বারা এই বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করিতে পারিয়াছেন যে, স্বাধীনতায় নহে ইউনিয়নে থাকিবার মধ্যেই স্কটল্যান্ডের অধিক লাভ নিহিত।
এইদিকে ভোটের ফল প্রকাশিত হইতে না হইতে ব্রিটেনের সর্ববৃহত্ অংশ অর্থাত্ ইংল্যান্ড লইয়া এক খেলা খেলিয়া দিলেন ক্যামেরোন। শুক্রবার ভোটের ফল আসিবার পরে প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি ইংল্যান্ডের বিষয়াদিতে কেবল ইংলিশ এমপিদের ভোট দিবার অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। উল্লেখ্য, ব্রিটেনের চারটি অঞ্চলের মধ্যে ইংল্যান্ড সর্ববৃহত্ এবং দেশের মোট জনসংখ্যার ৮২ শতাংশের বাস ইংল্যান্ডে। এই বিষয়টি পুঁজি করিয়া ইংলিশ জাতীয়তাবাদীরা দীর্ঘদিন ধরিয়া একটি ইংলিশ পার্লামেন্টের দাবি করিয়া আসিতেছে। তাহাদের বক্তব্য হইতেছে, ব্রিটেনের অপর তিন অঞ্চল অর্থাত্ স্কটল্যান্ড, ওয়েলশ ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নিজস্ব পার্লামেন্ট থাকিলেও ইংল্যান্ডের কোন পার্লামেন্ট নাই। ব্রিটিশ পার্লামেন্টেই এখন অবধি ইংল্যান্ডের সকল বিষয় দেখভাল হইয়া থাকে। সন্দেহ নাই যে, স্কটল্যান্ডের হাতে অনেক বেশি ক্ষমতা কেন্দ্র হইতে ছাড়িয়া দিবার প্রাক-নির্বাচনী ঘোষণাগুলি ইংল্যান্ড পার্লামেন্টপন্থিদিগকে উত্সাহিত করিবে। ইহাছাড়াও ওয়েলশ ও উত্তর আয়ারল্যান্ডও যে স্কটল্যান্ডের মত অধিক ক্ষমতা ভোগ করিবার জন্য তত্পর হইয়া উঠিবে। মোটকথা, ফলাফল যাহাই হোক না কেন কেন্দ্রের হাত হইতে ভবিষ্যতে অনেক বড়-বড় ক্ষমতাই ব্রিটেনের আঞ্চলিক পার্লামেন্টগুলির নিকট চলিয়া যাইবে তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। স্কটল্যান্ড নির্বাচনে স্বাধীনতাপন্থিরা জিতিয়া গেলে অন্যান্য অঞ্চলেও একই হাওয়া উঠিতে পারিত। এখন আর সেমত কোন আশঙ্কা দেখা যাইতেছে না। গ্রেট ব্রিটেনের অঙ্গহানি হইবার কোন আশঙ্কা সহসাই আর একবার দেখা দিবে বলিয়া মনে হইতেছে না।

লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.