না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন সোমনাথ চ্যাটার্জি

না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ভারতের লোকসভার সাবেক স্পিকার ও সিপিআইএম-এর সাবেক নেতা সোমনাথ চ্যাটার্জি (৮৯)। আজ সোমবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে দক্ষিণ কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাল্টিঅর্গান ফেইলিওরের কারণেই সোমনাথ চ্যাটার্জির মৃত্যু হয়েছে।

অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় সোমনাথ চ্যাটার্জিকে। শনিবার থেকেই অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা, ফুসফুসের সমস্যার পাশপাশি কিডনিজনিত সমস্যা ছিল। সোমনাথ চ্যাটার্জিকে রাখা হয়েছিল ভেন্টিলেশনে।  রবিবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি।

কিডনির সমস্যার কারণে ডায়ালিসিস চলছিল সোমনাথ চ্যাটার্জির। কিন্তু সেই ধকল নিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য ডা. সুকুমার মুখার্জির নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না।

সোমনাথ চ্যাটার্জির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক মহলে। মৃত্যুর খবর পেয়েই হাসপাতালে আসছেন পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়রা। রাজনীতিবিদরাও হাসপাতালে ভিড় জমিয়েছেন। ইতিমধ্যেই হাসপাতাল চত্বরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
সোমনাথের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, সিপিআইএম’এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিসহ শীর্ষ রাজনীতিকরা।

১৯২৯ সালের ২৫ জুলাই অাসামের তেজপুরে জন্মগ্রহণ করেন সোমনাথ চ্যাটার্জি। তার পিতা নির্মল চন্দ্র চ্যাটার্জিও ছিলেন একজন প্রতিতযশা আইনজীবী ও বুদ্ধিজীবী। কলকাতার মিত্র ইন্সটিটিউশনে স্কুল জীবন শেষের পর উচ্চশিক্ষার লাভের জন্য প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এর পাশাপাশি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন জেসাস কলেজ থেকে আইন বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টে অনুশীলন করেন।

১৯৬৮ সালে সিপিআইএম দলে যোগ দেন সোমনাথ চ্যাটার্জি। সেই থেকে প্রায় নয় দশক ধরে কমিউনিষ্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআইএম)-এর সদস্য ছিলেন। ১৯৭১ সালে প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হন। মোট ১০ বার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। শেষবার ২০০৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের বোলপুর কেন্দ্র থেকে লোকসভার সাংসদ হন তিনি।

২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত দেশটির লোকসভার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন সোমনাথ চ্যাটার্জি। ২০০৮ সালে ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তির বিরোধিতা করে ভারতের তৎকালীন মনমোহন সিং’এর নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রগেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) সরকারের ওপর থেকে সিপিআইএম সমর্থন তুলে নিলেও নৈতিকতার কারণ দেখিয়ে স্পিকারের পদ থেকে ইস্তফা দেননি সিনিয়র এই বাম নেতা। এরপরই দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ওই বছরই বরখাস্ত করা হয় সোমনাথ চ্যাটার্জিকে। সেই ঘটনায় যথেষ্ট ক্ষুব্ধ সোমনাথ তার পর থেকেই দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এমনকি সেই ঘটনার পরে দলে অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে তিনি কখনও নিজে থেকে দলের কাছে অনুরোধ জানাননি। এরপর ২০১৫ সালে সিপিআইএম’এর সর্বভারতীয় সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সীতারাম ইয়েচুরি তাকে দলে ফের যোগ দেওয়ার জন্য স্বাগত জানালেও বয়সের কারণ দেখিয়ে সেই প্রস্তাবে রাজি হননি সোমনাথ চ্যাটার্জি।

লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.