পুলিশের সহায়তা নিয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে বিএনপির প্রার্থীরা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তাদের চাপে রাখতে বিএনপি আগে থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে নানা গুজব ছড়ালেও নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে তা আরও বেড়েছে। নির্বাচনী প্রচারণা সুষ্ঠু করতে বিভিন্নভাবে পুলিশের সহযোগিতা নিয়েও বিএনপি প্রার্থীরা পুলিশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। এতে একদিকে বাহিনীর সুনাম যেমন ক্ষুণ্ণ হচ্ছে তেমনি বিএনপি কর্মীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ধারণ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। প্রার্থীদের অভিযোগকে অযৌক্তিক দাবি করে বিএনপির এই অপতৎপরতাকে ঘৃণ্য কৌশল বলে অভিহিত করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সূত্র বলছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি একের পর এক নিজেদের কর্মীদের ওপর কৌশলে হামলা করছে, নির্বাচনী অফিস পোড়াচ্ছে। আর সেগুলোর দায় আওয়ামী লীগের ওপরে চাপাচ্ছে তারা। নাশকতাকেন্দ্রিক বিভিন্ন মামলায় বিএনপির গ্রেফতারকৃত একাধিক নেতার জবানবন্দিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। শুধু তাই না, বিএনপি নিজেদের কর্মী ও নির্বাচনী প্রচারণায় কৌশলে হামলা চালানোর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় ও কর্মীদের ওপর হামলা করছে। এসব হামলায় বিএনপির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করে যাদের নাম পাচ্ছে তারা অধিকাংশই বিএনপির কর্মী। এমন প্রেক্ষাপটে জড়িতদের গ্রেফতার করা হলে বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে উদ্দেশ্যমূলক গ্রেফতার, পুলিশ পক্ষ নিয়ে কাজ করছে।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকটা অভিমানের সুরে রাজধানীর কোতয়ালী থানার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ তার নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকেও যখন দোষী সাব্যস্ত হয় তখন তার মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে একবার ভেবে দেখেন! পুলিশ হলেও আমরা তো মানুষ। আমরা প্রত্যেক দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা দিয়ে আসছি সমানভাবে। কিন্তু দিনের শেষে সব দোষ আমাদের। নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা-নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর যারা করছেন তাদের অধিকাংশই বিএনপির কর্মী। অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। শুধু যে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে তাতো নয়, যারা এসবের সঙ্গে জড়িত তাদের প্রত্যেককেই আমরা গ্রেফতারের তৎপরতা চালাচ্ছি। ফলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আমাদের ওপরে আসবে কেন?

এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)- এর একজন মুখপাত্র বলেন, পুলিশকে অযথা দোষারোপ করে একটি বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ণ করা নীতিগত অবমাননা। তারা নিরপেক্ষ প্লাটফর্ম থেকে কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। তারা অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধীদের গ্রেফতার করছে এ নিয়ে তাদের দোষারোপ করা ঠিক নয়। বরং নির্বাচনী পরিস্থিতি তৈরিতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা প্রতিটি দলের নেতাদের নৈতিক দায়িত্ব।

লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments