ফেলানি হত্যার বিচার : সীমান্তে হত্যা বন্ধ হোক

কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানি হত্যার বিচার শুরু হচ্ছে। আগামী ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের বিশেষ আদালতে বিচারকাজ শুরু হবে। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবার সঙ্গে দেশে ফেরার সময় ১৫ বছর বয়সী ফেলানি কাঁটাতারে আটকে পড়ে। এ সময় তাকে চৌধুরীহাট ক্যাম্পের বিএসএফ জওয়ানরা গুলি করে হত্যা করে। সীমান্তের কাঁটাতারের ওপর ঝুলে থাকা ফেলানির মৃত দেহের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্বে হৈচৈ পড়ে যায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সীমান্তে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করা হয়। বিএসএফ সদর দফতর এ ঘটনার বিচার করতে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স আদালত গঠন করে। গত মার্চ মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়। বিজিবি-বিএসএফ সদর দফতরে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদের ফলে বিএসএফ সদর দফতর ওই ঘটনার তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি দিতে ‘জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্ট’ গঠন করে। এই কোর্টে আগামী ১৩ আগস্ট ফেলানি হত্যার বিচারকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, বিজিবির সদর দফতর ফেলানি হত্যাকাণ্ডে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য বাংলাদেশের দুজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী, একজন আইনজীবী ও বিজিবির একজন প্রতিনিধিকে ভারতে যাওয়ার জন্য বিএসএফের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানিয়েছে। কোচবিহারের বিশেষ আদালতে ১৯ আগস্ট তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। আমরা মনে করি, ফেলানি হত্যার সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের চাওয়া পূরণ হবে। এই বিচার মানবতার সাক্ষী হয়ে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীবাহিনী কর্তৃক যে হত্যার সংস্কৃতি চালু রয়েছে তার নিষ্ঠুর উদাহরণ ফেলানি হত্যাকাণ্ড। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা চিরস্মরণীয়। ভারতের সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক বন্ধন, ভাষা-সংস্কৃতির মিল রয়েছে। অথচ সীমান্তে বিএসএফের নির্মমতা সেই সম্পর্কের বিপরীত চিত্রই প্রকাশ করে। সীমান্তে বসবাসকারী বাঙালিদের অধিকাংশ সময়ই বিএসএফ আতঙ্কে কাটাতে হয়। নিরীহ মানুষকে বিনা কারণে বিএসএফ কর্তৃক হত্যার নজির যেমন রয়েছে, তেমনি বিএসএফ কখনো কখনো বাংলাদেশের সীমান্তে ঢুকেও বিভিন্ন মানুষকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক এক বাংলাদেশি তরুণকে নগ্ন করে নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও চিত্র প্রকাশ পায়। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, আমরা মনে করি ফেলানি হত্যার সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে তার উষ্ণতা বাড়বে। এই বিচার মানবতার সাক্ষী হয়ে দু’দেশের সম্পর্কোন্নয়নে জোরালো ভূমিকা পালন করবে। আমাদের প্রত্যাশা, ফেলানি হত্যার বিচারের মধ্য দিয়ে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক অন্যান্য হত্যাকাণ্ডেরও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সীমান্তে শান্তির পরিবেশ ফিরে আসবে। অন্যায়ভাবে নিরীহ মানুষকে হত্যা বন্ধ হবে।felani
লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.