বিচার বিভাগে অভিযোগ ৬০, নিষ্পত্তি ৩২

নিউজ ডেস্ক, সিরাজগঞ্জ নিউজটোয়েন্টিফোর.কম ঃ

প্রায় ৫ মাসে দেশের আদালতগুলোর বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনিয়ম এবং দায়িত্বে অবহেলার ৬০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৩২টি অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাকিগুলো নিষ্পত্তির পর্যায়ে রয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানিয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের সামনে অভিযোগ/পরামর্শ বাক্স স্থাপন করা হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সম্পর্কিত ১০টি, সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ১০টি, অধ:স্তন আদালতের বিচারকের বিরুদ্ধে ২৫টি, অধ:স্তন আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ৬টি এবং বিবিধ ৯টি অভিযোগ জমা পড়ে।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্রমতে, এসব অভিযোগের মধ্যে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৩২টির নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিযোগকারী জানান, নাম গোপন রেখে আমিও একটি অভিযোগ করেছিলাম। অভিযোগ করার কিছুদিন পরেই প্রতিকার পেয়েছি। খুব ভালো লাগছে, অভিযোগের বিষয় আমলে নিয়ে অ্যাকশান নেওয়ার জন্য।

অভিযোগ বাক্স স্থাপনের পর সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো, বাক্সে বিচারপ্রার্থী জনগণ দেশের আদালতগুলোতে কমরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনিয়ম এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ সম্বলিত চিঠি ফেলতে পারবেন। এছাড়া দেশের যেকোনো নাগরিক বিচারপ্রার্থী জনগণের সমস্যা লাঘবে বিশ্লেষণধর্মী মতামতও পাঠাতে পারবেন এ বাক্সে। বাক্সটি স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য হল, বিচারপ্রার্থী জনগোষ্ঠীকে আইনি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দাফতরিক ও বিচারিক সেবার মানোন্নয়ন করা।

এছাড়া বিচারপ্রার্থী মানুষের সৃজনশীল ধ্যান-ধারণা এবং মূল্যবান মতামত গ্রহণ করে নীতি-নির্ধারণের ক্ষেত্রে এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটানো। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে এ অভিযোগ/পরামর্শ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। বাক্সে বিচারপ্রার্থী জনগণ, আইনজীবী ও সাধারণ জনগণ নিজের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে লিখিতভাবে নিজস্ব মতামত, পরামর্শ, অভিযোগ ইত্যাদি প্রকাশ করতে পারবেন।

একজন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার/স্পেশাল অফিসারকে প্রধান করে ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারের সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি অভিযোগ বাক্স ব্যবস্থাপনার জন্য গঠন করা হয়।

২০১১ সালে ২৩ জানুয়ারি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক সুপ্রিম কোর্টে বিচার বিলম্বসহ মামলাভুক্ত জনগণের হয়রানি ও দুর্নীতির কারণ অনুসন্ধানে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন বিচারপতির সমন্বয়ে কমিটি গঠন করেন। ওই সময়ও একটি অভিযোগ বাক্স বসানো হয়েছিলো। পরে অবশ্য ওই বাক্স সরিয়ে ফেলা হয়।

লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.