বিটিসিএলকে শিক্ষা দিতেই চার ওয়েবসাইট হ্যাক!

1483329961
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিটিসিএলের ‘উদাসীনতায়’ দশ দিনের মাথায় আবারও আক্রান্ত হয়েছে ডট বিডি ডোমেইনের চারটি ওয়েবসাইট। এই চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে দৈনিক ইত্তেফাকের ittefaq.com.bd, টেলিকম অপারেটর রবি’র robi.com.bd, সার্চ ইঞ্জিন গুগলের বাংলাদেশ ডোমেইন google.com.bd এবং বাংলালিংকের banglalink.com.bd।

ইন্টারনেট গেইটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ স্ট্যাটেজি অফিসার সুমন আহমেদ সাবির সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এবার এই হ্যাক করা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। ফেইসবুক প্রোফাইলে একজন লিখেছেন বিটিসিএল এর নিরাপত্তা উদাসীনতার প্রতিবাদে তিনি এ কাজ করেছেন। বিটিসিএলের জনসংযোগ কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ মোরশেদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘ডট বাংলার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ডট বিডি ও ডট বাংলাকে একই প্লাটফরমে আনার জন্য এখন মেনটেইনের কাজ চলছে। এই কারণে কোন হ্যাকার এই সুযোগটি নিয়েছে।’

কোনো ব্যবহারকারী .bd ডোমেইনের কোনো ওয়েসাইট দেখতে চাইলে তার সার্চ কোয়েরি বিটিসিএলের গেটওয়ে দিয়ে যায়। নিরাপত্তা দুর্বলতার কারণে কেউ যদি বিটিসিএল এর ডিএনএস এন্ট্রিতে ঢুকতে পারেন এবং কোনো ওয়েসাইটের তথ্য রিডাইরেক্ট করে দেন তাহলে ব্যবহারকারীরা আর সেই ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারেন না। তাদের সার্চ কয়্যারি ল্যান্ড করে হ্যাকারের ঠিক করে দেওয়া ওয়েবসাইটে চলে যায়। গত ২০ ডিসেম্বর এই কৌশল ব্যবহার করেই google.com.bd এর পথ বদলে দিয়েছিলেন এক পাকিস্তানি হ্যাকার। সেদিন এক নোটিসে তিনি লিখেছিলেন, Security is just an illusion। ওই ঘটনার পরও বিটিসিএল এর টনক নড়েনি। নতুন বছরের প্রথম প্রহরে একই কায়দায় চার ওয়েবসাইটের পথ বদলে দিয়েছেন এক ব্যক্তি, যিনি ফেইসবুকে নিজের নাম লিখেছেন আকাশ। রবি, বাংলালিংক, ইত্তেফাক আর গুগলের .নফ সাইট তিনি রিডাইরেক্ট করে দিয়েছেন নিজের ফেইসবুক পৃষ্ঠায়।

কেন এই কাজ করলেন– এমন প্রশ্নের জবাবে আকাশ টেলিফোনে ইত্তেফাককে বলেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইঞঈখ এ ঢুকে নিরাপত্তা ত্রুটি দেখে টেলিফোন করে তিনি সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তাতে তাদের উদাসীনতা কাটেনি। এর ফলে গত ২০ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হ্যাকার হ্যাক করে। তিনি বলেন, দেশের মধ্যেই যখন নিরাপত্তা নিয়ে এত উদাসীনতা, তখন যদি বাইরে থেকে আক্রমণ করে লজ্জা দেয়, তাহলে দোষ কার? দোষ তাদের যারা বিটিসিএলের নিরাপত্তা/ত্রুটি নিয়ে অবহেলা করছে। আকাশ নিজেকে বগুড়ার একটি কলেজের এইচএসসির ছাত্র বলে জানান।

ফেসবুকে আকাশ লিখেছেন, ‘পাকিস্তানি হ্যাকার লজ্জা দিয়ে যায়, তবুও শিক্ষা হয় না। কথায় আছে, সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল বাকা করতে হয়। তাই বছরের শেষ দিনে ৩১ংঃ এ কাজ করতে বাধ্য হচ্ছি। আকাশ লিখেছেন, তিনি যা করেছেন তা হ্যাকিং নয়, আর তিনিও হ্যাকার নন। দায়িত্বে থাকা ডেভেলপার দ্রুত এই সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে পারবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বিটিসিএল-এর শিক্ষা হওয়া উচিত…। আমি চাই না দেশের সাইবার নিরাপত্তা অবস্থা দুর্বল হোক আর যে কেউ এসে দেশের ক্ষতি করে চলে যাক।’
প্রধানমন্ত্রী, টেলিকম প্রতিমন্ত্রী ও তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীকে সবার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়ে আকাশ তার বার্তা শেষ করেছেন ‘জয় বাংলা’ বলে। বিটিসিএলের ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবিরও।

লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.