বিশ্ব শরণার্থী দিবস আজ: সাড়ে ৬ কোটি মানুষ দেশছাড়া

05 সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ এবং ইরাকে আইএস ও সরকারি বাহিনীর যুদ্ধসহ বেশকিছু কারণে বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা এখন সর্বকালের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) বলছে, বর্তমানে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষ শরণার্থী হিসেবে জীবন-যাপন করছে। আর ভূমধ্যসাগরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিয়েছে ১০ লাখেরও বেশি শরণার্থী। আর এই সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় নৌকাডুবিতে চলতি বছরের গত পাঁচ মাসে প্রাণ হারিয়েছে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ। ইউএনএইচসিআর বলছে, গত বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছিল ১ হাজার ৮৫৫ জন।
বর্তমানের এই প্রেক্ষাপটে আজ ২০ জুন পালিত হচ্ছে বিশ্ব শরণার্থী দিবস। শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর প্রতিবছর আজকের এই দিনে দিবসটি পালন করে। এ বিষয়ে সংস্থাটি কিছু কর্মসূচিও পালন করবে। সম্প্রতি ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র উইলিয়াম স্পিন্ডলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ২০১৬ সালের শরণার্থী মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, তুরস্ক থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়া যায়। লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়া যায়। এর মধ্যে লিবিয়া থেকে ইতালির পথে সাগরযাত্রা বেশি দীর্ঘ। এই পথেই মারা গেছে ২ হাজার ১১৯ জন শরণার্থী। অর্থাত্ এই পথে পাড়ি দেওয়া প্রতি ২৩ জন শরণার্থীর মধ্যে ১ জন নৌকাডুবিতে মারা যাচ্ছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০১৫ সালে ইউরোপে শরণার্থীদের তথাকথিত অনিয়মিত আগমনের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৫ হাজার ৫০৪ জন। এই শরণার্থীদের একটা বড় অংশ (৯ লাখ ৭১ হাজার ২৮৯ জন) ইউরোপে এসেছে সাগর পাড়ি দিয়ে। আরও প্রায় ৩৪ হাজার ২১৫ জন এসেছে স্থলপথে। যারা সাগর পাড়ি দিয়েছে তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৬৯৫ জন হয়তো সাগরে ডুবে মারা গেছে, নয়তো নিখোঁজ হয়েছে।
আইওএমের পরিচালক জেনারেল উইলিয়াম লেছি সুইং ভূমধ্যসাগর হয়ে শরণার্থীদের ইউরোপে আসার এই পথকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক নৌপথ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ শুধু ২০১৫ সালেই যে সাড়ে তিন হাজার শরণার্থী মারা গেছে সেটা এই পথেই। সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী পথটি হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বিপজ্জনক পথ। কারণ ১৯৯৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এই পথে মারা যায় প্রায় ছয় হাজার মানুষ। –
লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.