রাজশাহীতে সেই নাদিম মোস্তফাতেই আস্থা বিএনপির

২০০১ সালে সাংসদ হয়েছিলেন নাদিম মোস্তফা। এরপর কী হয়েছিলো! কেমন ছিল তার শাসনামল? এমন প্রশ্ন ছিল রাজশাহীবাসীর কাছে। কোনো প্রার্থী সম্পর্কে জানতে তার অতীত নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন করাটা বেশ কার্যকর পদ্ধতি। তবে রাজশাহীবাসী যা জানালেন, তা বেশ অবাক করার মতো।

স্থানীয় প্রবীণ নাগরিক জলিল আহমেদ জানান, নাদিম মোস্তফার আমলে রাজশাহী কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। স্থানীয় জনসাধারণ ভীতিকর এক পরিস্থিতির মধ্যে দিনযাপন করতে থাকে। অবশ্য সারা বাংলাদেশেই তখন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের প্রবল প্রতাপ চলছিলো। তবে রাজশাহীতে এর আঁচ ছিল বেশি। ‘আমের জেলা’র পরিচিত পাল্টে রাজশাহী পরিচিত পায় ‘জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসের জেলা’ হিসেবে। আর এর সবকিছুর পেছনেই কলকাঠি নাড়তে থাকেন নাদিম মোস্তফা।

রাজশাহী জেলা বিএনপির বর্তমান সাংসদ এই নাদিম মোস্তফা। একসময় ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি। ‘ছাত্রদলের ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি করেই নাদিম মোস্তফার উত্থান’ বলছিলেন স্থানীয় কলেজ শিক্ষক হাবিবুর রহমান।

বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নাদিম মোস্তফা চূড়ান্ত হওয়ায় ভীত স্থানীয় তরুণেরাও। অনুসন্ধানে জানা যায়, নাদিম মোস্তফার মদদেই একসময় এ অঞ্চলে বাংলা ভাইয়ের রামরাজত্ব চলতে থাকে। নাদিম মোস্তফার সাথে বাংলা ভাইয়ের সখ্যতাও ছিল বেশ গভীর। এ দু’জনকে একসাথে দেখা যেত বিভিন্ন স্থানে। এসকল ব্যাপারে সেসময়ে গণমাধ্যমে অসংখ্য সংবাদ প্রচারিত হয়।

এছাড়াও অনুসন্ধানে জানা যায়, নাদিম মোস্তফার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের দায়ে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বিভিন্ন থানায়। এসব মামলায় একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছেন তিনি।

তবে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে যে তিনি তারেক রহমানের বেশ ঘনিষ্ঠ। বিএ’নপি ক্ষমতায় থাকতে তিনি সকলকিছু তারেকের নির্দেশেই করতেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরোদমে প্রচারণায়ও নেমেছেন নাদিম মোস্তফা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পেইজও খুঁজে পাওয়া যায়। এ পেইজের মাধ্যমে সরকারবিরোধী বিভিন্ন উস্কানিমূলক তথ্য প্রচার করা হয়।

এছাড়াও স্থানীয় জনসাধারণের সাথে কথা বলে জানা যায়, নাদিম মোস্তফার অনুগত বাহিনী পুরোনো কায়দায় ভোটারদের ধানের শীষে ভোট দিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। সব মিলিয়ে রাজশাহীতে বিরাজ করছে ‘নাদিম মোস্তফা আতংক’।

লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments