‘শরীরে আঘাতচিহ্ন নেই, তাহলে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স কীভাবে’

imagesরথম ময়নাতদন্তের মত দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তেও সোহাগী জাহান তনুর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোন কিছু বের হয়ে না আসায় চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মামলা তদন্তের দায়িত্বে থাকা সিআইডি।

এই হত্যাকাণ্ডের সুরাহা করতে এখন নিজেদের ল্যাবে তনুর আলামতের ডিএনএ টেস্টে ‘যাদের বীর্যের’ উপস্থিতি পাওয়া গেছে তাদের সনাক্ত করতে সন্দেহভাজনদের তালিকা করার কথা জানিয়েছেন সিআইডির এক কর্মকর্তা।

কুমিল্লায় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার নাজমুল করিম খান বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সন্দেহভাজনদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। যা নিয়ে কয়েকবার সভা করে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে দেখা হয়েছে।

“আমাদের আগামী সপ্তাহের বৈঠকে তনু নিয়ে প্রাপ্ত সব তথ্য-উপাত্ত আবার পর্যালোচনা করা হবে। সেখানেই সন্দেহভাজনদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি চাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।”

গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে কলেজছাত্রী তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে সে সময় পুলিশের সন্দেহ হলেও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্তে পর বলা হয়, তনুর মৃত্যুর কারণ অজ্ঞাত। ধর্ষণেরও কোনো আলামত মেলেনি। এরপর আদালতের আদেশে কবর থেকে লাশ তুলে তনুর দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত হয়, যার প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে গত ১২ জুন। আড়াই মাস পর দেওয়া ওই প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ ও ধর্ষণ প্রশ্নে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে মৃত্যুর আগে তনুর ‘সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স’ হওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসকরা। এর মাধ্যমে তারা ‘ধর্ষণ’ বোঝাচ্ছেন কি না- এড়িয়ে গেছেন সেই প্রশ্ন।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দলের প্রধান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, মৃত্যুর পূর্বে তার সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স হয়েছে। যেহেতু দশ দিন পর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে, মৃতদেহ পচা ছিল, দশ দিন পর পচা গলা মৃতদেহ থেকে নতুন করে কোনো ইনজুরি বোঝা সম্ভব হয়নি।”

এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে সিআইডি কর্মকর্তা নাজমুল করিম বলেন, “শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাননি চিকিৎসকরা, তাহলে ‘সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স’ দেখলেন কীভাবে?”

দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তনুর পরিবার বলেছে, বানানো প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসার মাসখানেক আগে সিআইডির ল্যাবে তনুর আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার ফলের কথা জানা যায়। খুন হওয়ার আগে তনু ধর্ষিত হয়েছিলেন বলে ওই পরীক্ষার ভিত্তিতে বলেন সিআইডি কর্মকর্তারা।

লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.