সিরিজ বোমা হামলার ১৩ বছর, মনে পড়ে কি বাংলাদেশ?

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলাদেশের অন্ধকার সময় বলে অভিহিত করেন অনেকে। ওই ৫ বছর বাংলাদেশ দুর্নীতিতে টানা ৫ বছর চ্যাম্পিয়ন(!) হওয়ার গৌরব(!) অর্জন করেছিল। বিএনপি জামায়াতের ৫ বছরের দুঃশাসনের আমলে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে পিছিয়ে যাওয়ার গল্পই বেশি রচিত হয়েছিল। সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে উত্থান ঘটেছিলো সন্ত্রাসবাদের।

বিএনপি জামায়াতের শাসন আমল(২০০১ থেকে ২০০৬) এ সরকারী এমপি মন্ত্রীদের মদদে সারা বাংলাদেশে শক্ত অবস্থান তৈরি করে জঙ্গিরা। মুছে যায় বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। ওইদিন সকাল বেলা  সাড়ে ১১ টার এর মধ্যে দেশের ৬৩ জেলার প্রেসক্লাব, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও  ঢাকার ৩৪টিসহ সাড়ে ৪শ’ স্পটে প্রায় ৫শ’ বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। এই হামলায় নিহত হন ২ জন এবং আহত হয় দু’শতাধিক মানুষ।

জায়গাগুলোতে জেএমবির লিফলেট ছড়িয়ে দিয়েছিলো জঙ্গিরা। ‘দ্রুত এদেশে ইসলামী হুকুম কায়েম করতে হবে। নতুবা কঠিন পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে জেএমবি।’ বিচারকদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা লিফলেটে লেখা ছিল এ ধরনের কথা। ইসলামী আইন বাস্তবায়ন না হলে আবারও হামলার হুমকিও দেয় জেএমবি।

এর কয়েকদিন পর সিলেটে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিপ্লব গোস্বামীর ওপর বোমা হামলার ঘটনায় তিনি এবং তার গাড়িচালক আহত হন। ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বিচারক বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায় আত্মঘাতি জঙ্গিরা। এতে নিহত হন ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের বিচারক জগন্নাথ পাড়ে এবং সোহেল আহম্মদ। এই হামলায় আহত হন অনেক মানুষ।

জঙ্গিবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতা ও সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী আলমগীর কবির, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফা ও শীষ মোহাম্মদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে জঙ্গিবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ৩১ বছরের সাজা হয়েছিল।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠার অপচেষ্ঠায় লিপ্ত আছে এই সন্ত্রাসবাদী দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা। তবে দেশের মানুষ এখন আর পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশের নাগরিক না থেকে উন্নয়নের মহাসড়কে চলমান বাংলাদেশের যাত্রী হতে চায়। যেকোনো ধরণের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সতর্ক বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ।

লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments