সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন

untitled-8_220962প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্গম এলাকাসহ দেশের সব জেলাতেই রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে। উন্নত দেশের মতো অদূর ভবিষ্যতে এ দেশেও বুলেট ও পাতাল ট্রেন চলবে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাপানের বুলেট ট্রেনের প্রতি আমার খুব আগ্রহ ছিল। যতবার জাপানে গিয়েছি, সেখানে বুলেট ট্রেনে উঠতাম। সেদিন বেশি দূরে নয়, এ দেশেই বুলেট ট্রেন চালু করতে সক্ষম হব আমরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দ্বিতীয় বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে প্রধানমন্ত্রী

এক অনুষ্ঠানে এ নতুন ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তিনি ঢাকা-রাজশাহী রুটে সিল্কসিটি সার্ভিসের বিকল্প হিসেবে নতুন ব্রডগেজ ট্রেন সার্ভিসও চালু করেন। প্রধানমন্ত্রী এদিন যান চলাচলের সুবিধার জন্য খিলগাঁও ফ্লাইওভারে স্থানীয় সরকার বিভাগের তৈরি খিলগাঁও ফ্লাইওভারের লুপ খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি কমলাপুর থেকে ফেরার পথে প্রগতি সরণি-বনশ্রী সংযোগ সড়কে নেমে হাতিরঝিল প্রকল্পের সাউথ ইউ-লুপের ফলক উন্মোচন করেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন। খবর বাসস, বিডিনিউজ ও ইউএনবির।

রেলপথ এবং নদ-নদী বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাংক এবং দাতাগোষ্ঠী তাদের নিজেদের স্বার্থে যোগাযোগের সহজ এবং সাশ্রয়ী এ মাধ্যম দুটিও বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শ দেয়। তারা বঙ্গবন্ধু সেতুতেও রেললাইন স্থাপনে রাজি ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দাতারা অর্থ-সহায়তা দেবে, কিন্তু আমাদের ভালো-মন্দ আমাদেরই বুঝতে হবে। এখন বিশ্বব্যাংক বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশ দিয়ে পৃথক রেলসেতু নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই, দেশটা উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাক। রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও মুক্তিযুদ্ধের জন্য জীবন দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে রেলের যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ্ভ নির্মাণের নির্দেশ দেন তিনি। প্রতিবন্ধীরা রেলে যাতায়াতে যেন সুবিধা পেতে পারে, সে জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নতুন ট্রেন ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’ ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে আজ রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। প্রতি শনিবার ছাড়া এটি নিয়মিত চলাচল করবে। ট্রেনটি সকাল ৭টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে দুপুর পৌনে ১টার দিকে চট্টগ্রাম পেঁৗছাবে। আবার চট্টগ্রাম থেকে বিকেল ৫টায় ছেড়ে রাত পৌনে ১১টায় ঢাকায় পেঁৗছাবে।

রেল সূত্র জানায়, সোনার বাংলা ১৬ বগির বিশেষ ট্রেনটি ৭৪৬ আসনের। চার বগিতে আছে ২২০টি আসন, শোভন চেয়ার ৪২০টি ও এসি বার্থ আসন ৬৬টি। এ ছাড়া দুটি খাবার গাড়ির সঙ্গে ৪০টি আসন রয়েছে।

সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে এসি চেয়ারের ভাড়া এক হাজার ১০০ টাকা, এসি সিটের ভাড়া এক হাজার টাকা ও শোভন চেয়ারের ভাড়া ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রেনে যাত্রীদের খাবার সরবরাহ করবে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

এলজিআরডির এবং সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, রেল সচিব ফিরোজ সালাউদ্দিন এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র আনিসুল হক ও সাঈদ খোকন, সেনাবাহিনীর প্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ভারত ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ-সহায়তায় নির্মিত ১৬ বগির এই সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি চলাচল করার পথে কেবল বিমানবন্দর রেলস্টেশনে কিছু সময় যাত্রাবিরতি করবে। এটি পাঁচ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পেঁৗছাবে।

১৯৮৮ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রথম আন্তঃনগর বিরতিহীন ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেস যাত্রা শুরু করে।

১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাস হস্তান্তর :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সমস্যা দূর করতে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০টি বাস হস্তান্তর করেছেন। গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের কাছে বাসের চাবি হস্তান্তর করেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- রংপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ, গোপালগঞ্জ, সাভার ক্যান্টনমেন্টে প্রয়াস বিশেষায়িত স্কুল, নেত্রকোনা সরকারি কলেজ, রাঙামাটি সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, ঢাকা ও কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ, যশোর সরকারি এমএম কলেজ এবং কক্সবাজার সরকারি কলেজ। ইফাদ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইফাদ অটোস লিমিটেড ও ভারতের অশোক লেল্যান্ড কোম্পানি এই বাসগুলো দান করেছে।

১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাস দান করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইফাদ অটোস লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, ইফাদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ, ইফাদ অটোস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিন আহমেদ অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.