সোনালি আঁশের সঙ্গে জড়িত সলঙ্গার মানুষ


জি,এম স্বপ্না,সলঙ্গা প্রতিনিধি ঃ বংলার কৃষক সোনালি আাঁশের সঙ্গে জড়িত, সেই শিশুকাল থেকে আজ অবধি। গ্রামের প্রায় প্রতিটি মানুষের সঙ্গে সোনালি আঁশ পাট যেন শৈশব সুত্রে গাঁথা। বকুল তলার কালিদহ নদীতে পাট গাছ থেকে আঁশ ছাড়াতে ছাড়াতে গুনগুনিয়ে গান গাইছিলেন এমনি এক চাষী। সলঙ্গা থানার ৬টি ইউনিয়নে এবার পাটের ফলন ভাল হয়েছে। সলঙ্গা ইউনিয়নের বনবাড়ীয়া, নাইমুড়ী, ভেংড়ী, রুয়াপাড়া, পুস্তিগাছা ও বওলাতলা গ্রামের পাটের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি। ঝড় ঝঞ্জা, রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে মাঠে সোনালি আঁশ ফলানো কৃষকের মুখে হাসি থাকবে নাতো কার মুখে হাসি থাকবে ? দাদনপুর গ্রামের পাট চাষী হযরত আলী, হরিণচড়ার শরিফুল ইসলাম, সাহেবগঞ্জের ইনছান আলী, মালতিনগরের জুলফিকার আলী, জনজালীপাড়া গ্রামের গ্যাদন শেখ সহ অনেকেই জানান, এপ্রিল-মে মাসের পাট বোনা হয়। পাটগাছ ২/৩ ইঞ্চি হওয়ার পর নিড়ানী দিতে হয়। কাটা হয় ৫/৭ ফুট লম্বা হওয়ার পর। তারপর ১৫/১৬ দিন পানিতে ডুবিয়ে রেখে পঁচানো পাট গাছ থেকে ছাড়ানো হয় সোনালি আঁশ। হোড়গাতি গ্রামের কৃষক ফজলার রহমান জানান, এ বছর আমাদের শ্রম স্বার্থক হয়নি। বাজারে পাটের দাম খুব কম। প্রথম দিকে একটু বেশী হলেও বর্তমানে প্রতি মন ১৬/১৭ শত টাকা হওয়ায় খরচ ওঠাই কঠিন । বেতুয়ার বিলে ছব্দের আালী, কাঞ্চনবেওয়া, মেজাতন নেছা ও বোয়ালিয়া বিলের পাট ধোয়া জাফর আলী, এনাম, মকবুল বলেন প্রায় ১০/১৫ বছর ধরে পাট ধোয়া কামলার কাজ করছি। প্রতিদিন সামান্য মজুরি পাই। সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। এবার পাটের দাম কম বলে গৃহস্থরা কামলার দামও কম দিচ্ছে। পাঁচলিয়া বাজারে পাট কাঠি (সোলা) কিনতে আসা অনেক ক্রেতা পাটের চেয়ে সোলার দাম বেশী বলে জানায়। সব মিলে বর্তমান বাজারে পাটের মুল্য কম থাকায় এবার কৃষকের মুখে তেমন হাসি নেই।

লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.