৭৩’র ব্যাচের মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাইয়ের ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

1486475018

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে ১৯৭৩ সালে নিয়োগ পাওয়া (বিশেষ সুপিরিয়র সার্ভিস) কর্মকর্তাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

গতবছর ১০ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। এ অবস্থায় ১৯৭৩ সালের বিশেষ বিসিএস ব্যাচের মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ২৬ জন হাইকোর্টে রিট করেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম ও মেজবাহ উদ্দিন।
রিটে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এ ব্যাচে ১ হাজার ৩১৪ জন কর্মকর্তা বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছিলেন। বর্তমানে এরা সকলেই অবসরে গেছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুবরণও করেছেন। ২০১০ সালে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। এ সংজ্ঞায় ১৫ ক্যাটাগরির ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ওই সংজ্ঞার ৭ নম্বর ক্রমিকে ‘১৯৭৩ সালের বিসিএস কর্মকর্তা’ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত ছিল। কিন্তু সরকার এ সংজ্ঞা পরিবর্তন করে গত বছরের ১০ নভেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে ৯ ক্যাটাগরির ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য করা হয়। এতে দুটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। এরমধ্যে একটিতে বলা হয়,‘ যে সমস্ত ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের বিভিন্ন ট্রেনিং/প্রশিক্ষন ক্যাম্পে নাম অন্তর্ভূক্ত করেছেন’ তারাই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন। এ সংজ্ঞার ফলে ’৭৩ এর বিসিএস কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন না। একারণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নতুন সংজ্ঞা এবং জামুকার যাচাই-বাছাই নির্দেশিকা চ্যালেঞ্জ করে এ রিট করা হয়। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়।
লাইক এবং শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
20

Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.